মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভূমি জরিপ ব্যবস্থাপনা

ভূমি জরিপ ব্যবস্থাপনা
প্রথম পরিচ্ছেদঃ ভূমি জরিপের আইন ও বিধি
সার্ভে আইন-১৮৭৫
(১৮৭৫ সালের ৫নং আইন)

প্রথম খন্ড
প্রারম্ভিক

ধারা-১। ( শিরোনাম ও বিস্তৃতি):

এই আইন সার্ভে আইন ১৮৭৫ নামে অভিহিত হইবে । এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে ।

ধারা-২। (ব্যাখ্যামূলক অংশ):

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হইলে এই আইন-
'কালেক্টর'বলিতে কোনো জেলার কালেক্টর বা ডেপুটি কমিশনার এবং এই আইনের আওতায় বিশেষ বা সার্বিকভাবে কালেক্টরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেই কোনো কর্মকর্তাকে বুঝাইবে ।
'ডেপুটি কালেক্টর'বলিতে যেই কোনো ডেপুটি কালেক্টরকে বুঝাইবে, যিনি এই আইনের আওতায় কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
'এস্টেট'অর্থ-কালেক্টর বা জেলা প্রশাসক কর্তৃক আইনানুগভাবে রক্ষিত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা আরোপিত বা নিস্কর জমি;
যেই কোনো খাসমহল এবং নিস্কর জমি, যাহা কোনো রেজিস্টারভুক্ত হয় নাই;
প্রচলিত আইনে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নাব্য নদী বা সমুদ্র ভাসিয়া উঠা যেই কোনো চর বা দ্বীপ;
এবং সিলেট জেলার নিম্নলিখিত বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত হইবে :
যেই কোনো ভূমির বিষয়, যাহা তাত্‍ক্ষনিকভাবে বা ভবিষ্যতে ভূমি রাজস্ব প্রদান সাপেক্ষে কোনো নতুন চুক্তির আওতায় আসে;
কোনো ভূমি রাজস্ব প্রদান সাপেক্ষে অথবা ভূমি রাজস্বের ন্যায় পৃথকভাবে নিরূপিত পরিমাণ যদিও উক্ত পরিমাণের জন্য সরকারের সহিত কোনো চুক্তি অন্তর্ভুক্ত হয় নাই;
আসাম ল্যান্ড এন্ড রেভিনিউ রেগুলেশন ১৮৮৬-এর ৪র্থ অধ্যায়ে বর্ণিত রাজস্বের আওতাভুক্ত ও রাজস্বমুক্ত এস্টেটের সাধারণ রেজিস্টারে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত কেবল সরকারের জমি;
ব্যাখ্যা :  কোনো জমি এইখানে বর্ণিত কোনো এস্টেটের পয়স্থি বা নদী বা সমুদ্র ভরাটের ফলে যেই রায়তিস্বত্বের পরিবৃদ্ধি ঘটিয়া বর্তমানে আইনে বলবত, তাহা উক্ত রায়তিস্বত্বের পরিবৃদ্ধি হিসাবে বিবেচিত, এরূপ এস্টেটের অংশ বলিয়া গণ্য হইবে।
'মৌজা'তে  অন্তর্ভুক্ত হইবে গ্রাম,ক্ষুদ্র গ্রাম (হ্যামলেট),তোলা বা একই ধরনের এস্টেটের বিভক্তিকৃত অংশ,পরগণা বা অন্য কোনো স্থান, যেই নামেই তাহা পরিচিত হোক না কেন।
'দখলকার'বলিতে প্রত্যেক জমিদার,রায়ত,কৃষক এবং অন্যান্য ব্যক্তি, যাহারা জমির খাজনা প্রাপ্য বা এই মর্মে জমি দখল করিয়া রহিয়াছে যে, তাহা তাহার প্রাপ্য এবং জমির দখলীয় সকল রায়তকে বুঝাইবে;
'ধারা'বলিতে এই আইনের অধীনে ধারা বুঝাইবে;
'জরিপ'-এর অন্তর্ভুক্ত হইবে সীমানা চিহ্নিতকরণ, নদীতীর বরাবর ক্ষয়প্রাপ্ত বা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমি, নদীর গতি পরিবর্তনের ফলে পুনঃউদ্ভব বা নূতন উদ্ভবকৃত জমির পরিমাণ নির্ধারণ এবং জরিপের সহিত যুক্ত পূর্ববর্তী সকল কার্যক্রম।
'রায়তিস্বত্ব'উপরে বর্ণিত এস্টেটসমূহের ব্যতিক্রম ব্যতীত এবং যাহাদের কেবল দখলের অধিকার রহিয়াছে, ঐ সকল রায়ত ব্যতীত জমিতে সকল স্থায়ী স্বার্থ বুঝাইবে;সকল ঘাটওয়ালী জমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
'রায়ত'বলিতে সকল বা যেই কোনো জমির মালিককে বুঝাইবে;
'জমিদার'বলিতে কোনো এস্টেটের সকল বা যেই কোনো মালিককে বুঝাইবে।
 

দ্বিতীয় খন্ড
জরিপ সংক্রান্ত

ধারা-৩।(সরকার জরিপের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন):

সরকার প্রয়োজন মনে করিলে কোনো জেলা বা জেলার অংশ বা দেশের কোনো অঞ্চলে জরিপের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং জরিপের মাধ্যমে সকল এস্টেট, রায়তিস্বত্ব,মৌজা অথবা মাঠের সীমানা চিহ্নিতকরণের আদেশ দিবেন ।

ধারা-৪।(সরকার জরিপ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করিতে পারিবেন):

পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত জরিপ আদেশ অনুসারে জরিপ কার্য পরিচালনার জন্য অথবা এ আইনের যেই কোনো বা সকল উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার জরিপ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করিতে পারিবেন,যিনি এই আইনের অধীন কালেক্টরের সকল বা যেই কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন; এবং সরকার এক বা একাধিক সহকারী তত্ত্বাবধায়ক এবং ডেপুটি কালেক্টর নিয়োগ করিতে পারিবেন, যাহারা এই আইনের অধীনে কালেক্টরের সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, যেই সকল ক্ষমতা কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক তাহাদের প্রদত্ত হইবে এবং অন্যভাবে নহে ।
তবে শর্ত থাকে যে,দেশের কোনো অঞ্চলের জন্য জরিপ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা সত্ত্বেও সরকার কালেক্টরকে এই আইনের অধীন উক্ত অঞ্চলের যেই কোনো দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন ।

ধারা-৫।(কালেক্টর জমিতে প্রবেশের পূর্বে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করিবেন):

কোনো জমিতে জরিপের উদ্দেশ্যে প্রবেশের পূর্বে যেই জমিতে জরিপ করা হইবে, তাহার মালিকের প্রতি,সংলগ্ন জমির মালিকের প্রতি এবং নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ব্যক্তি বা তাহার ব্যবস্থাপনার সহিত জড়িত ব্যক্তি বা এই জমির সহিত অন্য কোনোভাবে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিগণকে ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে কালেক্টর বা কালেক্টর কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সম্মুখে ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত স্থান ও সময়ে তাহাদের ভূমির সীমানা চিহ্ন দেখাইয়া দেওয়ার জন্য এবং এইরূপ সীমানা নির্ধারণ ও সংশোধনে সহায়তা করিবার স্বার্থে উপস্থিত হওয়ার জন্য ঘোষণাপত্র জারি করিবেন ।
এইরূপ ঘোষণাপত্রে অনুলিপি প্রেরণ করিতে হইবে-
(১) জরিপের জমি যেই জেলায় অবস্থিত বলিযা জ্ঞাত, সেই জেলার জজকোর্ট এবং কালেক্টরের কার্যালয়ে;
(২) জরিপের জমি যেই অধিক্ষেত্রের মধ্যে অবস্থিত বলিয়া জ্ঞাত, সেই অধিক্ষেত্রের প্রত্যেক উপবিভাগীয় কার্যালয়,পুলিশ স্টেশন,মুন্সেফ কোর্ট এবং সাব-রেজিস্টারের অফিসে;এবং
(৩) কালেক্টর যেইরূপ সমীচিন মনে করিবেন, সেইরূপ স্থান বা স্থানসূমহে।

ধারা-৬। (কালেক্টর জমিতে প্রবেশ করিতে পারিবেন):

ঘোষণাপত্র জারির পর কালেক্টর এবং তাহার অধীনস্থ ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেই কোনো ব্যক্তি জমিতে প্রবেশ করিতে পারিবেন এবং জরিপের ও সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য সকল কাজ ও প্রয়োজনীয় তদন্ত করিতে পারিবেন ।

ধারা-৭। (কালেক্টর বিশেষ নোটিশ জারি করিতে পারিবেন) :

কালেক্টর উপরে উপরিল্লিখিত যেই কোনো বিষয়ের প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তিকে তাহার অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির নিকট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে,যাহা নোটিশ জারির পনেরো দিনের কম নহে,হাজির হইবার জন্য বিশেষ নোটিশ জারি করিতে পারিবেন;এবং যাহার উপর এইরূপ বিশেষ নোটিশ জারি হইবে, তিনি নোটিশের চাহিদামতো হাজির হইতে এবং ৫ ধারা অনুসারে যেই কোনো কার্য করিতে এবং প্রয়োজনীয় যেই কোনো তথ্য,তিনি যতটুকু জানে,দিতে বাধ্য থাকিবেন।

ধারা-৮। (কালেক্টর সরবরাহকৃত মালামাল ও শ্রমের মূল্য প্রদান করিবেন) :

৫ ধারার যেই কোনো উদ্দেশ্যে কোনো মালামাল বা শ্রম সরবরাহ করা হইলে, কালেক্টর বা অধিযাপনকারী কর্মকর্তা এইরূপ মালামাল বা শ্রম সরবরাহকারীকে অবিলম্বে মূল্য পরিশোধ করিবেন।

ধারা-৯। (কালেক্টর দখলকারকে সীমানা রাখিয়া পরিষ্কার করিতে বলিতে পারিবেন) :

কালেক্টর বা কালেক্টর কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো জরিপ কর্মকর্তা বিশেষ নোটিশের মাধ্যমে কোনো জমির দখলকারকে জরিপের স্বার্থে প্রয়োজন হইলে গাছ,জঙ্গল,বেড়া বা ফসল কাটিয়া বা সরাইয়া সীমানা রেখা বা অন্য কোনো রেখা পরিষ্কার করিতে বলিতে পারিবেন।

ধারা-১০। (ক্ষতিপূরণ) :

পূর্ববর্তী ধারার অধিযাচন অনুসারে কোনো রেখা পরিষ্কারের জন্য যদি কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়, তাহা হইলে কালেক্টর যেই কোনো গাছ,জঙ্গল,বেড়া বা ফসলের প্রাক্কলিত মূল্য এবং প্রকৃতি নির্ধারণ ও লিপিবদ্ধ করিবেন এবং মালিককে তাহা পালন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় খরচসহ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।

ধারা-১১। (আমিন বা জরিপ কর্মকর্তা নকশা বা কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিবার জন্য লোকজনকে ডাকিতে পারিবেন) :

আমিন বা জরিপ কর্মকর্তা কোনো গ্রাম বা সুবিধামতো অঞ্চলের নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন করিয়া এই সংক্রান্ত নকশা ও কাগজপত্র কালেক্টরের নিকট প্রেরণের পূর্বে,যাহাদের উপস্থিতি প্রয়োজন,তাহাদের নাম উল্লেখপূর্বক একটি সাধারণ নোটিশ গ্রামের সুবিধাজনক স্থানে টাঙঙ্গাইয়া দিবেন এবং যেই সকল ব্যক্তি গ্রামের বা কোনো এলাকার সীমানা চিহ্নিত করিয়াছিল, তাহাদেরকে নোটিশ জারির তিনদিনের মধ্যে তাহার নিকট হাজির হইয়া নকশা,ফিল্ড বই এবং এই জাতীয় কাগজপত্র পরিদর্শন করিবার জন্য ডাকিবেন। তাহারা এই ম্যাপ বা কাগজে স্বাক্ষর করিয়া প্রত্যয়ন করিবে যে,নকশায় তাহাদের দেখাইয়া দেয়া অনুসারে সীমানা অঙ্কন করা হইয়াছে;এবং এইভাবে তলবকৃত প্রত্যেক ব্যক্তি নকশা ও দলিলপত্র পরিদর্শনের জন্য আমিন বা জরিপ কর্মকর্তার সম্মুখে হাজির হইতে আইনত বাধ্য থাকিবে।
আপত্তির বিবরণ :  যাহাকে তলব করা হইয়াছে, এমন ব্যক্তি নকশা ও দলিলপত্রে স্বাক্ষর প্রদানে আপত্তি দিতে চাহিলে লিখিতভাবে দিতে হইবে এবং এইরূপ আপত্তি উক্ত গ্রাম বা এলাকার নকশার সহিত সংযুক্ত করিয়া কালেক্টরের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
নকশা বা কাগজপত্রে স্বাক্ষরের ফলাফল : এই ধারামতে নকশা বা দলিলপত্র সংযুক্ত কোনো স্বাক্ষরের দ্বারা ইহা বুঝাইবে যে,স্বাক্ষর দানকারী যেইভাবে চিহ্নিত করিয়াছেন, সেইভাবেই নকশায় তাহা উপস্থাপিত হইয়াছে এবং এইরূপ স্বাক্ষরের কারণে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরবর্তী ধারা অনুসারে কালেক্টরের নিকট অন্য কোনো কারণে সীমানা সম্পর্কে আপত্তি দায়েরের ক্ষমতা ক্ষুন্ন হইবেনা।

ধারা-১২। (নকশা প্রাপ্তির পর কালেক্টর তাহার কার্যালয়ে প্রজ্ঞাপন টাঙ্গাইবেন) :

কালেক্টরের কার্যালয়ে নকশা বা সীমানা সংক্রান্ত কাগজপত্র পৌছাইবার পর কালেক্টর তাহার নিজের কার্যালয়ে এবং যাহা তিনি সঙ্গত মনে করিবেন, এইরূপ স্থানে প্রজ্ঞাপন লটকাইয়া নকশা ও মৌজা বা কোনো এলাকার সীমানা সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পরির্দশনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হইয়াছে মর্মে জারি করিবেন;এবং কোনো ব্যক্তির কোনো আপত্তি থাকিলে প্রজ্ঞাপন জারির ছয় সপ্তাহের মধ্যে আপত্তি দাখিল করিবার নির্দেশ দিবেন,যেই সময়ের পর কালেক্টর জরিপের প্রয়োজনে চিহ্নিত সীমানা দৃঢ়করণ করিবেন।
কালেক্টর যখন বিশেষ নোটিশ ইস্যু করিবেন : যখন কালেক্টরের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে (হয় কোনো ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি নকশা এবং কাগজপত্রে জরিপ কর্মকর্তার নির্দেশমতো পূর্ববর্তী ধারার অধীনে স্বাক্ষর করিতে ব্যর্থ হয় অথবা অন্য কোনো কারণে) যে,স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা জমিদার কাগজে সীমানা যেইভাবে অাঁকা হইয়াছে বা উপস্থাপিত হইয়াছে, সেই বিষয়ে আপত্তি দিতে চাহে।
এইরূপ জমিদার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তির সম্মুখে হাজির হইতে বলিবেন,একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাহা নোটিশ জারি হইতে এক মাসের কম হইবে না,হাজির হইয়া এই আইনের অধীনে প্রস্তুত নকশা ও অন্যান্য কাগজপত্রের সঠিকতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকিলে লিখিতভাবে জানাইবার জন্য কালেক্টর একটি বিশেষ নোটিশ জারি করিবেন।
এইরূপ নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ব্যক্তি হাজির হইতে এবং নকশা ও কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিতে বা লিখিত আপত্তি দিতে ব্যর্থ হইলে, কালেক্টর জরিপ ও আইনের উদ্দেশ্যে প্রণীত নকশা ও কাগজপত্র চূড়ান্তকরণের জন্য অগ্রসর হইবেন।
তবে শর্ত থাকে যে,বর্ণিত সময়ের মধ্যে যদি কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নকশা ও কাগজপত্রের অনুলিপি গ্রহণের জন্য কালেক্টরের নিকট খরচ দাখিল করিয়া থাকে, তাহা হইলে কালেক্টর উক্ত অনুলিপি প্রস্তুতের আদেশ দিবেন এবং তাহার অফিসে নোটিশ জারির মাধ্যমে উক্ত প্রতিনিধিকে নোটিশে উল্লিখিত,তবে জারির তারিখ হইতে পনেরো দিনের কম নহে,সময়ের মধ্যে স্বাক্ষর বা লিখিত আপত্তি দেয়ার সুযোগ দিবেন।
এই ধারামতে কোনো লিখিত আপত্তি দাখিল হইলে,কালেক্টর প্রয়োজন মনে করিলে পুনরায় তদন্ত করিয়া,যেইরূপ সঙ্গত মনে করিবেন, সেইরূপ আদেশ দিবেন এবং যদি প্রাপ্ত আপত্তি তদন্ত করিয়া যুক্তিসঙ্গত মনে না হয়, তাহা হইলে আপত্তিকারীর নিকট হইতে এইরূপ পুনরায় তদন্তের জন্য ব্যয় আদায়ে নির্দেশ দিবেন।

ধারা-১৩। (পরে আপত্তি প্রদানকারীকে পুনরায় তদন্তের খরচ জমা দিতে হইবে) :

পূর্ববর্তী ধারার বিশেষ নোটিশ ও বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যক্তি নকশা দেখিতে ও কাগজপত্র স্বাক্ষর করিতে বা লিখিত আপত্তি দাখিল করিতে ব্যর্থ হইলে,কালেক্টর কর্তৃক জরিপের উদ্দেশ্যে সীমানা চূড়ান্তকরণের পূর্বে যেই কোনো সময়,ম্যাপ ও কাগজপত্রের সঠিকতা সম্পর্কে লিখিত আপত্তি দাখিল করিতে পারিবেন।
তাহার আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে পুনঃতদন্তের প্রয়োজন হইলে কালেক্টর তাহাকে প্রয়োজনীয় খরচ জমা দিতে নির্দেশ দিবেন;এবং উক্ত ব্যক্তি কালেক্টর কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় খরচ দিতে ব্যর্থ হলে,এই আইনের উদ্দেশ্যে সাধারণভাবে ধরিয়া নেয়া হইবে যে,তিনি নকশা ও কাগজপত্রের সঠিকতা মানিয়া লইয়াছেন।
যদি কোনো আপত্তিকারী তদন্তের প্রয়োজনীয় খরচ জমা দেন, তবে কালেক্টর উক্ত খরচে পুনরায় তদন্ত করাইবেন এবং যদি কালেক্টর আপত্তি যুক্তিসঙ্গত মনে না করিয়া থাকেন, তাহা হইলে উক্ত তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য কালেক্টর বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক যেই খরচ হইবে, তাহা জমাকৃত টাকা অপেক্ষা অর্ধেক হইলে উক্ত অতিরিক্ত টাকা আদায়ের নির্দেশ দিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে,নির্ধারিত সময়ের পরে আপত্তিকারী যেই কোনো ব্যক্তির নিকট এইরূপ পরবর্তী আপত্তির বিষয়ে পুনরায় তদন্ত অনুষ্ঠানের পূর্বে কোনো অবস্থাতেই খরচ আদায় করা যাইবে না।
 

দ্বিতীয় ক-খন্ড

ধারা-১৩ক। (সরকার নদী তীর ক্ষয়,বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্ভবকৃত জমি জরিপের জন্য আদেশ দিতে পারিবেন) :সরকার প্রয়োজন মনে করিলে কোনো নদী তীর ক্ষয় অথবা বৃদ্ধি নির্ধারণ, সময়ে সময়ে নদীজনিত কারণে জমির পুনঃউদ্ভব বা নতুন জমির উদ্ভব নির্ধারণের জন্য কোনো জেলায়,জেলার অংশ বিশেষে বা কোনো স্থানীয় এলাকায় জরিপের নির্দেশ দিতে পারিবেন।


ধারা-১৩খ। (জমিতে প্রবেশের পূর্বে কালেক্টর ঘোষণাপত্র জারি করিবেন) :
(১) ১৩ক ধারার অধীনে জরিপের উদ্দেশ্যে কোনো জমিতে প্রবেশের পূর্বে কালেক্টর বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেইখানে নদীর তীর ক্ষয় বা বৃদ্ধি পাইয়াছে বা নদী তীরে জমির উদ্ভব বা পুনঃউদ্ভব ঘটিয়াছে, সেই সকল গ্রামবাসী বা জমির মালিকদের প্রতি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে উপস্থিত হইয়া ক্ষয়,বৃদ্ধি,উদ্ভব,পুনঃউদ্ভব ইত্যাদি চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করিবার জন্য ঘোষণাপত্র জারি করিবেন।
(২) যেই এলাকায় জরিপ কার্য পরিচালনা করা হইবে, উক্ত এলাকার পুলিশ স্টেশন ও তহসিল অফিস এবং কালেক্টরের নির্দেশমতো এইরূপ অন্যান্য স্থানে এই ঘোষণাপত্র জারি করিতে হইবে।
ধারা-১৩গ। (জমি,ইত্যাদিতে প্রবেশ) :

ধারা ৬,৭,৮,৯ ও ১০-এর বিধানসমূহ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন সাপেক্ষে,এই খন্ডের বিধান অনুসারে জরিপকালে প্রয়োগ হইবে, যেন তাহা ২য় খন্ডের বিধান অনুসারে জরিপকাজে প্রয়োগ করা হইতেছে।

ধারা-১৩ঘ। (সর্বশেষ জরিপ নকশায় সিকস্তি রেখা অংকন) :

ধারা ১৩খ-এর (১) উপধারা অনুসারে ঘোষণাপত্র জারির মাধ্যমে কোনো নদী তীরের ক্ষয়ে যাওয়া বিস্তৃত স্থান নির্ধারণ করিবার পর আমীন অথবা জরিপ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মৌজার সর্বশেষ জরিপ নকশায় সিকস্তি রেখা অংকন করিবেন;সিকস্তি রেখার উভয় পাশ্বে ক্ষয় বিস্তৃতির সাল উল্লেখ করিয়া স্পষ্টভাবে পদবী ও তারিখ উল্লেখপূর্বক স্বাক্ষর করিবেন এবং নকশা ও সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র কালেক্টরের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং আমিন অথবা জমির বৃদ্ধি,পুনঃউদ্ভব বা নূতন উদ্ভব ইত্যাদি জরিপের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কর্মকর্তা উক্ত বৃদ্ধি বা উদ্ভবের পেরিফেরী ট্রাভার্স শিটে উল্লেখ করিবেন এবং উক্ত ট্রাভার্স শিটে এবং সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্রে স্পষ্টভাবে পদবী ও তারিখ উল্লেখপূর্বক স্বাক্ষর করিয়া কালেক্টরের নিকট প্রেরণ করিবেন।
 

ধারা-১৩ঙ। (নকশা বা ট্রাভার্স শিট প্রাপ্তির পর কালেক্টর আপত্তি আহবান করিবেন) :

সিকস্তি রেখায় উল্লিখিত নকশা অথবা জমির বৃদ্ধি,পুনঃউদ্ভব বা নূতন উদ্ভব সংক্রান্ত ট্রাভার্স শিট প্রাপ্তির পর কালেক্টর তাহার কার্যালয়ে এবং এইরূপ অন্যান্য স্থানে, যাহা তিনি সমীচিন মনে করিয়া থাকেন,নোটিশ জারির মাধ্যমে উক্ত নকশা ও ট্রাভার্স শিট সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিবেন এবং এইরূপ যেই কোনো ব্যক্তির কোনো আপত্তি থাকিলে তিনি নোটিশ জারির ত্রিশদিনের মধ্যে আপত্তি দাখিল করিতে পারিবেন।
(২) কোনো আপত্তি দাখিল হইলে কালেক্টর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শুনানী গ্রহণ করিয়া এবং প্রয়োজন মনে করিলে পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে এইরূপ আপত্তির বিষয়ে তিনি যেইরূপ সঠিক মনে করিবেন, সেইরূপ আদেশ দিবেন।
(৩) উপধারা (২)-এর অধীনে আপত্তি নিষ্পত্তির পর অথবা যদি কোনো আপত্তি দাখিল না হইয়া থাকে, তাহা হইলে আপত্তি দাখিলের নির্দিষ্ট সময় পার হইবার পর কালেক্টর নকশায় প্রদর্শিত সিকস্তি লাইন চূড়ান্ত করিবেন এবং এইরূপ চূড়ান্তকরণের পর নকশায় অংকিত সিকস্তি রেখা ও উল্লিখিত সিকস্তির সাল সঠিক ও সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে;এবং জমির বৃদ্ধি,পুনঃউদ্ভব এবং নতুন উদ্ভবের ক্ষেত্রে জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ট্রাভার্স শিটে কালেক্টর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যায়ন প্রদান করিবেন।
 

তৃতীয় খন্ড
সীমানা চিহ্ন সম্পর্কিত

ধারা-১৪। (কালেক্টর অস্থায়ী সীমানা চিহ্ন নির্মাণ করিতে পারিবেন) :

এই আইনের অধীনে পরিচালিত জরিপ কার্যক্রম এলাকায় কালেক্টর যেইরূপ নির্দেশ দিবেন, সেইরূপ উপকরণ দিয়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী সীমানা চিহ্ন নির্মাণ করিতে পারিবেন;জরিপ কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়া বা সীমানা সংক্রান্ত কোনো আপত্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া এবং স্থায়ী সীমানা চিহ্ন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত কালেক্টর কোনো জমির দখলকারকে উক্ত অস্থায়ী সীমানা-চিহ্ন রক্ষণাবেক্ষণ ও বহাল রাখিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন।

 

ধারা-১৫। (কালেক্টর স্থায়ী সীমানা চিহ্ন নির্মাণ করিতে পারিবেন) :

কোনো এস্টেট,রায়তাধীন জমির,মৌজার বা মাঠের জমির সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণের জন্য কালেক্টর যেই কোনো জমির উপর জরিপের যেই কোনো সময় যেই কোনো উপকরণ দিয়া যতগুলি প্রয়োজন মনে করিবেন, স্থায়ী সীমানা-চিহ্ন নির্মাণ করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে,স্থায়ী সীমানা চিহ্ন নির্মাণের সাতদিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য কালেক্টর তাহার কার্যালয়ে,কাচারীতে অথবা প্রত্যেক এস্টেটের জন্য সুবিধাজনক অন্যান্য স্থানে সীমানা-চিহ্নের সংখ্যা ও প্রকৃতি এবং সীমানা- চিহ্ন নির্মাণের খরচের প্রাক্কলন উল্লেখপূর্বক নোটিশ জারি করিবেন।
 

ধারা-১৬। (খরচের বন্টন) :

এই আইন অনুসারে অস্থায়ী বা স্থায়ী চিহ্ন নির্মাণের সকল খরচ,অতঃপর এইখানে আরোপিত পদ্ধতিতে,হারাহারিভাবে জমিদারগণ বা তাহাদের এস্টেটের রায়তগণের নিকট হইতে আদায় করা হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে,কোনো রায়তের ভূ-সম্পত্তির সীমানা-চিহ্নের এক হাজার পাঁচশত ফুটের মধ্যে অবস্থিত না হইলে, তিনি সীমানা-চিহ্ন নির্মাণ খরচের আংশিক ব্যয় বহন করিতে বাধ্য নহে।
 

ধারা-১৭। (খাজনামুক্ত জমি রায়তিস্বত্বের অংশ হিসাবে গণ্য হবে) :

খাজনা প্রদান করা হয় নাই, এইরূপ সকল জমি, যাহা কোনো জেলার কালেক্টরের খাজনামুক্ত জমির রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত নহে,তাহা এই আইনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় রায়তিস্বত্বের অংশ হিসাবে গণ্য হইবে এবং যদি তাহা কোনো রায়তিস্বত্বের স্থানীয় সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তখন তাহা যেই এস্টেটের অধীনে অবস্থিত, তাহা কালেক্টরের আদেশমতো উক্ত একই এস্টেটের অংশ হিসেবে গণ্য হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে,খাজনামুক্ত স্বত্বের মুল্য পাঁচ টাকার কম হলে, এই আইনের অধীনে সীমানা-চিহ্ন নির্মাণের জন্য খরচের অংশ প্রদান করিতে হইবে না।
 

ধারা-১৮। (দখলকার সীমানা-চিহ্ন রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হইলে কার্যপদ্ধতি) :

যদি কোনো ব্যক্তি, যাহাকে ১৪নং ধারা অনুসারে সীমানা-চিহ্ন সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ করা হইয়াছে,সীমানা-চিহ্ন রক্ষণাবেক্ষণ,মেরামত করিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে কালেক্টর উক্ত সীমান-চিহ্ন রক্ষণাবেক্ষণ ,মেরামত বা পুনঃনির্মাণ করিবেন এবং ৫৭ ধারার বিধান অনুসারে ঐ ব্যক্তির নিকট ইহার জন্য সংঘটিত খরচ আদায় করা হইবে, যেই ব্যক্তি সীমানা- চিহ্ন রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত করিতে ব্যর্থ হইয়াছে।


ধারা-১৯। (জমিদার,ইত্যাদি সীমানা-চিহ্ন সংরক্ষণ করিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হইলে কালেক্টরকেঅবহিত করিতে বাধা) :

প্রত্যেক জমিদার,স্বত্ব দখলকার এবং কৃষক আইনতঃ তাহার সাধ্যমতো তাহার এস্টেট,রায়তিস্বত্ব বা খামারের মধ্যে অথবা তাহার এস্টেট,রায়তিস্বত্ব বা খামারের সীমানায় নির্মিত এবং অন্য কোনো এস্টেট,রায়তিস্বত্ব বা খামারে নির্মিত সীমানা-চিহ্ন বা তাহার দায়িত্বে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিদের যৌথ দায়িত্বে দেয়া হইয়াছে,সংরক্ষণ করিতে আইনতঃ বাধ্য এবং এইরূপ কোনো সীমানা-চিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হইলে,ধ্বংস হইলে বা অপসারণ করা হইলে বা মেরামতের প্রয়োজন হইলে অবিলম্বে কালেক্টরকে অবগত করিবেন।
 

ধারা-২০। (কালেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত সীমানা-চিহ্ন পুনঃনির্মাণ করিতে পারিবেন এবং খরচ জমিদার,ইত্যাদির নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবেন) :

যখন কালেক্টর জানিতে পারিবেন যে,এই আইনের বিধান মোতাবেক নির্মিত কোনো স্থায়ী সীমানা-চিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত,ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অপসারিত হইয়াছে বা মেরামতের প্রয়োজন হইয়াছে, তখন কালেক্টর উক্ত সীমানা-চিহ্ন পুনঃনির্মাণ,পুনঃবহাল বা মেরামত করিতে পারিবেন এবং এইরূপ পুনঃনির্মাণ,পুনঃবহাল বা মেরামতের যেই কোনো খরচ ঐ জমিদার এবং স্বত্ব মালিক, যাহাকে ২৯ ধারা অনুসারে দায়িত্ব প্রদান করা হইয়াছে, তিনি যেইরূপ সঠিক মনে করিবেন, সেইরূপ হারাহারিভাবে আদায় করিবেন। এইরূপ সকল খরচ ৫৭ ধারা অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।

 

ধারা-২১। (কালেক্টর দখলকারের সম্মতি লইয়া তাহাকে দিয়া সীমানা-চিহ্ন নির্মাণ করিতে পারিবেন) :

এই আইনের কোনো কিছুই কালেক্টরকে তাহার নির্দেশনা ও জমির দখলকারের সম্মতি সাপেক্ষে উক্ত দখলকার কর্তৃক অস্থায়ী বা সীমানা-চিহ্ন,নির্মাণ,সংরক্ষণ বা মেরামত করানো হইতে নিবৃত করিবে না।
কালেক্টর এইরূপ দখলকারকে উক্ত নির্মাণ বা মেরামতের খরচ প্রদান করিবেন এবং ৪র্থ খন্ডের বিধান মতে উক্ত খরচের অংশসমূহ বন্টন ও আদায় করা হইবে।
 

চতুর্থ খন্ড
খরচের অংশ বন্টন ও আদায় সংক্রান্ত

ধারা-২২। (কালেক্টর সীমানা-চিহ্ন সংক্রান্ত খরচের বিবরণী প্রস্তুত করিবেন) :

যেই জমিতে জরিপ আদেশ হইয়াছে, তাহার কোনো অংশে অথবা ইহার অন্য কোনো সুবিধাজনক অংশে সীমানা-চিহ্ন নির্মাণ সম্পন্ন হইবার পর কালেক্টর সীমানা-চিহ্ন নির্মাণ সংক্রান্ত সংঘটিত সকল খরচের একটি বিবরণী প্রস্তুত করিবেন।
 

ধারা-২৩। (বিবরণীর সূচী) :

এই বিবরণীতে কোনো এলাকার বা তাহার আংশিকভাবে নির্মিত বিভিন্ন প্রকার সীমানা-চিহ্নের সংখ্যা,সকল প্রকার সীমানা- চিহ্ন নির্মাণের মোট খরচ, যেই সকল এস্টেট বা মৌজার অভ্যন্তরে বা সীমানার চিহ্ন স্থাপন করা হইয়াছে, তাহার নাম এবং মোট সংখ্যা উল্লেখ করিতে হইবে।
 

ধারা-২৪। ৯এস্টেসমূহের মধ্যে কালেক্টর চিহ্ন নির্মাণের খরচের অংশ ভাগ করিয়া দিবেন) :

এইরূপ বিবরণী প্রস্তুত সম্পন্ন হইবার পর কালেক্টর উল্লিখিত এস্টেটসমূহের মধ্যে এস্টেটের অভ্যন্তরে বা সীমানায় নির্মিত সীমানা-চিহ্ন নির্মাণের মোট খরচ,প্রত্যেক প্রকার সীমানা-চিহ্নের বিবরণ ও সংখ্যা উল্লেখপূর্বক সাময়িকভাবে ভাগ করিয়া দিবেন।

 

ধারা-২৫। (নোটিশ জারি করিতে হইবে) :

পূর্ববর্তী ধারা অনুসারে সাময়িক খরচ বন্টনের সাথে সাথে কালেক্টর প্রত্যেক এস্টেটের জমিদারগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন-
(ক) নোটিশে তাহার এস্টেটের জন্য খরচের অংশ এই ধারা ও ২৯ ধারা অনুসারে নোটিশ জারির খরচ উল্লেখ করিতে হইবে;

(খ) এই বিবরণী কালেক্টরের কার্যালয়ে পরিদর্শনের জন্য যে উন্মুক্ত, তাহা উল্লেখ করিতে হইবে;

(গ) কোনো আপত্তি থাকিলে, কালেক্টর তাহা বিবেচনার সুযোগ দিতে তাহার কার্যালয়ে আপত্তিকারীকে ব্যক্তিগতভাবে বা ক্ষমতাপ্রদত্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে নোটিশে বর্ণিত তারিখ ও সময়ে (এই সময় নোটিশ ইস্যু করিবার তারিখ হইতে দুই মাসের কম হইবে না) উপস্থিত হইতে বলিবেন।
 

(ঘ) নোটিশে এই মর্মে সর্তক করিয়া দিতে হইবে যে,তিনি যদি নোটিশে নির্দিষ্ট তারিখে উপস্থিত না হন, তাহা হইলে  ধরিয়া নেয়া হইবে যে, তিনি আর এস্টেটের খরচের অংশ বন্টন সংক্রান্ত সকল আপত্তি প্রত্যাহার করিয়া লইয়াছেন।

(ঙ) তাকে এই মর্মে জানাইবেন যে,এই আইন অনুসারে ২৬ ধারার অধীনে তাহার এস্টেটের জন্য তাহাকে একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে,তাহার এস্টেটের এইরূপ রায়তের নিকট হইতে যাহারা ১৬ এবং ১৭ ধারা মোতাবেক খরচের অংশ বহন করিতে দায়বদ্ধ (উক্ত ধারার জন্য নোটিশের সহিত একটি অনুলিপি সংযোজন করিয়া দিতে হইবে);এবং বর্ণিত রায়তগণের মধ্যে খরচের অর্থ বন্টন করিবার সুবিধার্থে এই আইন মোতাবেক তিনি রায়তের জমিতে অথবা জমির সীমানায় নির্মাণকৃত প্রত্যেক বর্ণনার সীমানা-চিহ্নের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক সকল জমির মালিকগণের একটি তালিকা কালেক্টরকে জমা দিবেন।
 

(চ) তাহাকে এই মর্মে সতর্ক করিয়া দিবেন যে,তিনি যদি উপরে উল্লিখিত তালিকা বর্ণিত তারিখে বা তৎপূর্বে জমা দিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে ধরা  হইবে যে, ২৬ ধারা মোতাবেক তাহার নিকট প্রাপ্য টাকার মধ্যে রায়তগণের নিকট হইতে আংশিক আদায়ের সকল দাবি তিনি পরিত্যাগ করিয়াছেন।
 

ধারা-২৬ (কালেক্টর চূড়ান্ত বন্টননামা প্রস্তুত করিবেন) :

নোটিশে বর্ণিত তারিখে কালেক্টর সাময়িক বন্টননামার বিষয়ে সকল আপত্তি বিবেচনা করিয়া তিনি যেইরূপ সঠিক মনে করিবেন, সেইভাবে খরচের চূড়ান্ত বন্টননামা প্রস্তুত করিবেন।
এইরূপ খরচ চূড়ান্ত বন্টনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক এস্টেটের মধ্যে যেই হারে সীমানা-চিহ্ন প্রস্তুতের খরচ বন্টন করা হইয়াছে, যেইভাবে হারাহারিভাবে ২৫ ধারার অধীনে নোটিশ জারির খরচসমূহ বন্টন করিয়া দিতে হইবে;
এবং এইরূপ প্রত্যেক এস্টেটের জন্য চূড়ান্তভাবে বন্টনকৃত অংশ,উপরের বর্ণনা মোতাবেক নোটিশ জারির হারাহারি খরচসহ,কালেক্টর কর্তৃক প্রতিটি এস্টেটের জমিদারের নিকট প্রাপ্য হইবে।

 

ধারা-২৭। (কালেক্টর চূড়ান্ত বন্টননামা বাতিল করিতে পারিবেন) :

পূর্ববর্তী ধারায় যাই থাকুক না কেন, কালেক্টর যদি জানিতে পারেন যে, ২৫ ধারা মোতাবেক খরচের অংশ প্রদানে দায়বদ্ধ কোনো এস্টেটের জমিদার নোটিশ পায় নাই, তাহা হইলে অথবা অন্য পর্যাপ্ত কোনো কারণে তিনি চূড়ান্ত বন্টননামা বাতিল করিতে পারিবেন।
 

ধারা-২৮। (কোনো জমিদার হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে ধরিয়া নেয়া হইবে যে, তিনি আপত্তি প্রত্যাহার করিয়াছেন) :

কোনো জমিদার ২৫ ধারা মোতাবেক জারিকৃত নোটিশে বর্ণিত নির্ধারিত তারিখে হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে ধরিয়া নেয়া হইবে যে,তিনি তাহার এস্টেটের জন্য ধার্যকৃত খরচের অংশ বিষয়ে সকল আপত্তি প্রত্যাহার করিয়া নিয়াছেন এবং পরবর্তী কোনো তারিখে তিনি এতদসংক্রান্ত কোনো আপত্তি দাখিল করিতে পারিবেন না;এবং কোনো জমিদার নির্ধারিত তারিখ বা তাহার পূর্বে রায়তগণের এইরূপ তালিকা (যখন ২৫ ধারা অনুসারে এইরূপ তালিকা জমা প্রদান করিতে বলা হইবে) জমা দিতে ব্যর্থ হইলে ধরিয়া নেয়া হইবে যে,তিনি তাহার এস্টেটের জন্য ২৬ ধারার অধীনে বিভিন্ন রায়তের নিকট আদায়যোগ্য খরচের অংশ আদায়ের অধিকার পরিত্যাগ করিয়াছেন।

 

ধারা-২৯। (চূড়ান্ত বন্টনকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখপূর্বক কালেক্টর নোটিশ দিবেন) :

২৬ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট এস্টেটসূমহের মধ্যে খরচ চূড়ান্তভাবে বন্টন সম্পন্ন হওয়া মাত্র কালেক্টর প্রত্যেক এস্টেটের জন্য চূড়ান্তভাবে বন্টিত অর্থের প্রদেয় অংশ উল্লেখপূর্বক,প্রত্যেক জমিদারকে এক মাসের মধ্যে উৎকোচের  অর্থ,নোটিশ জারির খরচসহ প্রদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবে;
এইরূপ অর্থ উক্ত সময়ের মধ্যে প্রদেয় না হইলে উক্ত অর্থ,বাত্‍সরিক ৬%-এর বেশী নহে, এইরূপ হারে সুদসহ,বা সরকার সময়ে সময়ে যেইরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হারে ৫৭ ধারার বিধান মতে আদায় করা হইবে।
এই ধারামতে ইস্যুকৃত নোটিশ জমিদার বা জমিদারের সহিত রায়তগণ যৌথভাবে ১৯ ধারার বিধান মোতাবেক আইনতঃ যেই সকল সীমানা-চিহ্ন সংরক্ষণ করিতে বাধ্য এবং ২০ ধারা মোতাবেক কোনো কারণে তাহারা সীমানা-চিহ্ন পুনঃনির্মাণ সংরক্ষণ বা মেরামতের খরচ প্রদান করিতে দায়বদ্ধ, তাহা উল্লেখ করিতে হইবে।
 

ধারা-৩০। (কালেক্টর জমিদার এবং রায়তগণের মধ্যে বন্টন করিয়া দিবেন) :

যদি কোনো জমিদার ২৫ ধারা মোতাবেক রায়তগণের তালিকা জমা প্রদান পূর্বক কালেক্টরের নিকট তাহার এস্টেট এবং রায়তগণের মধ্যে তাহার এস্টেটের জন্য উপরে উল্লিখিত খরচের বন্টন করিবার জন্য আবেদন করে,তাহা হইলে কালেক্টর জমিদার ও রায়তগণের মধ্যে উক্ত খরচ সাময়িকভাবে বন্টন করিয়া দিতে কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন;তিনি ২৫ ধারার বিধান মোতাবেক বর্ণিত রায়তগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন এবং ২৫ ও ২৬ ধারার বিধান মোতাবেক জমিদার ও রায়গতগণের মধ্যে চূড়ান্তভাবে অংশ বন্টন করিবেন;
এবং এইরূপ রায়তগণের ক্ষেত্রে ২৮ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে,দুই টাকার কম প্রদেয় খরচের জন্য এই ধারার অধীনে সাময়িক বা চূড়ান্ত অংশ বন্টনের ক্ষেত্রে কোনো রায়তকে নোটিশ প্রদান করা হইবে না;এইরূপ অংকের অংশ বন্টনের সময় প্রদেয় হিসাবে তালিকায় প্রকাশ করাই যথেষ্ট হইবে।
এইরূপ তালিকা উপবিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় এবং গ্রামের কতিপয় দৃষ্টিগ্রাহ্য স্থানে,যেইখানে উক্ত জমিসমূহ অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে,লটকাইয়া প্রকাশ করিতে হইবে।

 

ধারা-৩১। (জমিদার এবং রায়তগণের মধ্যে সংক্ষিপ্ত অংশ বন্টন) :

এই খন্ডে যাহাই থাকুক না কেন,কালেক্টর যখন বিবেচনা করিবেন যে,কোনো এস্টেটের জন্য জমিদার এবং এইরূপ এস্টেটের রায়তগণের মধ্যে এই আইনের অধীনে কোনো খরচের অংশ সংক্ষিপ্তভাবে বন্টন করিয়া দেয়ার জন্য যথেষ্ট, তথা (সড়ক-সেস-এর উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত কাগজপত্র হইতে,এই আইনের অধীনে কোনো তদন্তের কার্যক্রম হইতে বা অন্য কোনো উপায়ে) কালেক্টরের নিকট রহিয়াছে, তখন কালেক্টর যতশীঘ্র সম্ভব, ২৪ ধারা মোতাবেক সাময়িক বন্টননামাপ্রস্তুতের পর এবং জমিদারকে ২৫ ধারার (ঙ) দফার অধীনের তারিখ জমা দেয়ার জন্য না ডাকিয়াই কোনো এস্টেটের জমিদার এবং রায়তগণের মধ্যে উক্ত এস্টেটের জন্য ২৪ ধারা মোতবেক প্রদেয় খরচের অংকের সাময়িক অংশ বন্টন করিয়া দিবেন।
 

ধারা-৩২। (সংক্ষিপ্তভাবে সাময়িক অংশ বন্টনের ক্ষেত্রে জমিদারকে নোটিশ প্রদান) :

যখন উপরে বর্ণিত দুইটি ধারা অনুসারে জমিদার ও রায়তগণের মধ্যে সংক্ষিপ্তভাবে সাময়িক অংশ বন্টন প্রস্তুত করা হইবে,তখন জমিদারকে ২৫ ধারার বিধান মোতাবেক নোটিশ জারিপূর্বক (ক), (খ), (গ) ও (ঘ) দফায় বর্ণিত তথ্যাবলীর অতিরিক্ত হিসাবে এবং (ঙ) ও (চ) দফার পরিবর্তে জমিদারকে জ্ঞাত করিতে হইবে যে,
এই আইনের ২৬ ধারার বিধান মোতাবেক তাহার এস্টেটের জন্য প্রদেয় খরচের একটি অংশ তিনি রায়তগণের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবেন;এবং
কালেক্টর জমিদার এবং রায়তগণের মধ্যে উক্ত খরচ যেই তালিকা অনুসারে সাময়িকভাবে বন্টন করিয়াছেন, সেই তালিকা নোটিশের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে;এবং তাহাকে সতর্ক করিয়া দিবেন যে,
যদি তিনি নির্ধারিত তারিখ বা তারিখের পূর্বে এইরূপ সাময়িক অংশ বন্টনের বিষয়ে কোনো
আপত্তি প্রদান না করেন, তাহা হইলে ধরিয়া নেয়া হইবে যে, তিনি ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কোনো আপত্তি প্রদানের সকল অধিকার ত্যাগ করিয়াছেন;এবং
কালেক্টর এইরূপ অংশ বন্টন চূড়ান্ত করিবেন অথবা কোনো সংশোধন করিবেন, যাহা তিনি সঠিক মনে করিবেন;
তবে শর্ত থাকে যে,জমিদার কর্তৃক চূড়ান্তভাবে প্রদেয় টাকার পরিমাণ সাময়িকভাবে বন্টিত টাকার পরিমাণের বেশী হইবে না।
 

ধারা-৩৩। (সাময়িক অংশ বন্টনের ক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি) :

জমিদার এবং রায়তগণের মধ্যে ৩১ ধারার বিধান মোতাবেক সংক্ষিপ্তভাবে সাময়িক অংশ বন্টন প্রস্তুত হইবার পর কালেক্টর ৩০ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রায়তগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন এবং অন্যান্য সকল কার্যাদি সম্পাদন করিবেন, যেন বর্ণিত সাময়িক বন্টন ৩০ ধারা মতে জমিদার প্রদত্ত তালিকা অনুসারে প্রস্তুত করা হইয়াছে।


ধারা-৩৪। (রায়তগণের মধ্যে অংশ বন্টনের পদ্ধতি) :

জমিদার এবং রায়তগণের মধ্যে অংশ বন্টনের ক্ষেত্রে কালেক্টর প্রথমে কোনো রায়তিস্বত্বের অন্তর্ভুক্ত নহে, এমন জমি এবং তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট জোতের জন্য জমিদার কর্তৃক পরিষ্কারভাবে প্রদেয় খরচ বাদ দিবেন;এবং অবশিষ্ট অংশ রায়তগণের মধ্যে বন্টনের ক্ষেত্রে তিনি বিবেচনা করিবেন যে,কতটি খুঁটি জমির ভিতরে এবং জমির সীমানায় নির্মাণ করা হইয়াছে,প্রত্যেক জোতের পরিমাণ এবং সীমানা-চিহ্ন হইতে তাহার দুরত্ব;তবে কোনো রায়তের জমি হইতে এক হাজার পাঁচশত ফুট দুরত্বের মধ্যে কোনো সীমানা না থাকিলে তাহার জন্য কোনো রায়তকে খরচের অংশ প্রদান করিতে হইবে না।
 

ধারা-৩৫। (রায়তগণকে অংশ বন্টনের নোটিশ প্রদান) :

৩০ ধারা মোতাবেক চূড়ান্ত অংশ বন্টন সম্পন্ন হওয়া মাত্র কালেক্টর প্রত্যেক রায়তকে তাহার জোতের জন্য প্রয়েদ অংশ প্রদান করিয়াছেন, সেই তারিখ হইতে ধার্য বার্ষিক ৬% সুদসহ (যদি থাকে) এবং নোটিশ জারির খরচ ও তাহাকে এইরূপ অর্থ প্রদান করিতে ডাকার জন্য খরচসহ নোটিশ জারির এক মাসের মধ্যে কালেক্টরকে প্রদান করার নির্দেশ দিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে,দুই টাকার কম প্রাপ্য কোনো রায়তকে তাহার অংশ প্রদানের জন্য কোনো নোটিশ প্রদান করা হইবে না;কিন্তু এইরূপ ক্ষেত্রে ৩০ ধারা অনুসারে একটি তালিকা প্রকাশই যথেষ্ট হইবে এবং নিকট হইতে এইরূপ কোনো তালিকা প্রকাশের খরচও আদায় করা হইবে না।

 

ধারা-৩৬। (জমিদার খরচ জমা না দেয়া পর্যন্ত কালেক্টর রায়তগণকে নোটিশ দিবেন না) :

৩৫ ধারায় যাহাই বলুক না কেন,যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট জমিদার নোটিশ জারি এবং তালিকা প্রকাশের সকল খরচ কালেক্টরকে জমা দিবেন, ততক্ষণ কালেক্টর কোনো রায়তকে নোটিশ দিবেন না।
 

ধারা-৩৭। (কোনো রায়ত এবং অধীনস্থ রায়তের মধ্যে অংশ বন্টন) :

কোনো রায়ত এবং অধীনস্থ রায়তের মধ্যে খরচের অংশ বন্টনের জন্য রায়তিস্বত্বের মালিক কালেক্টরের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং এইক্ষেত্রে যতদুর সম্ভব ২৫,২৬,২৭,২৮,২৯,৩০,৩৪ এবং ৩৫ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে;এবং জমিদার ও রায়তের মধ্যে সংক্ষেপে সাময়িক অংশ বন্টনের জন্য ৩১,৩২ এবং ৩৩ ধারার বিধানসমূহ যতদুর সম্ভব প্রযোজ্য হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে,কোনো রায়তের কেবল দখলের অধিকার থাকিলে এবং যাহার খাজনা ধার্য হয় নাই, তাহার ক্ষেত্রে এইরূপ অংশ বন্টন হইবে না।

 

ধারা-৩৮। (জমিদার বা রায়তকে প্রদেয় অর্থ আদায়) :

প্রত্যেক জমিদার বা রায়তকে পূর্ববর্তী ধারাসমূহের অধীনে প্রদেয় অর্থ উল্লিখিত পদ্ধতিতে সুদসহ বিভিন্ন সময়ে বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য প্রচলিত আইনের বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।
 

ধারা-৩৯। ৯সরকার কর্তৃক খরচের অর্থ আদায়) :

১৮৭৪ সালের ১লা নভেম্বর হইতে সীমানা-চিহ্ন নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক সকল খরচের ক্ষেত্রে এই খন্ডের বিধানাবলী কার্যকর হইবে।
 

পঞ্চম খন্ড
সীমান সংক্রান্ত বিরোধ

ধারা-৪০। (সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি) :

এই আইনের অধীনে জরিপের সময় কোনো সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ কালেক্টরের নজরে আসিলে তিনি যেইরূপ প্রয়োজন মনে করিবেন, সেইরূপ তদন্ত অন্তে এইখানে পরবর্তীতে উল্লিখিত পদ্ধতি মোতাবেক সীমানা নির্ধারণ করিবেন।

 

ধারা-৪১। (সীমানা নির্ধারণ পদ্ধতি এবং কালেক্টর প্রদত্ত আদেশের ক্ষমতা) :

কালেক্টর প্রকৃত দখলের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করিবেন এবং সীমানা-চিহ্ন দ্বারা তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করিবেন;এবং এই ধারার অধীনে পক্ষসমূহের দখল সংক্রান্তে কালেক্টর প্রদত্ত আদেশ,উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বাতিল বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কালেক্টর কর্তৃক নির্ধারিত সীমানায়,দেওয়ানী আদালতের আদেশের ন্যায় কার্যকর থাকিবে।

 

ধারা-৪২। (বিরোধপূর্ণ জমি কালেক্টরের দখল গ্রহণের ক্ষমতা) :

এই ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় তদন্তের পর কালেক্টর যদি বিরোধপূর্ণ জমি কোনো পক্ষের দখলে রহিয়াছে, তাহা নির্ধারণ করিতে না পারে, তাহা হইলে কালেক্টর বিরোধপূর্ণ জমি নিজ দখলে রাখিবেন, যতক্ষণ না কোনো পক্ষ জমিটির দখলস্বত্ব প্রমাণ করিতে পারে।

 

ধারা-৪৩। (সালিশের জন্য প্রেরণের ক্ষমতা) :

পূর্ববর্তী ধারার অধীনে কোনো সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ কালেক্টর প্রয়োজন মনে করিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সম্মতিক্রমে সালিশের জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন।
১৯৪০ সালের সালিশ আইনের কার্যপ্রণালী, যাহা এই পর্যন্ত ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে, তাহা প্রেরীত এই বিরোধ নিস্পত্তির জন্য প্রযোজ্য হইবে।
 

ধারা-৪৪। (রাজস্ব জরিপ বা আদালত কর্তৃক পূর্বে নির্ধারিত সীমানা পুনঃপ্রচার) :

যদি ৪০ ধারার বর্ণনা অনুসারে কোনো বিরোধীয় সীমানা ইতঃপূর্বে কোনো উপযুক্ত অধিক্ষেত্র সম্পন্ন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হইয়া থাকে অথবা পূর্ববর্তী কোনো রাজস্ব জরিপ বা সেটেলমেন্ট কার্যক্রমের ফলে নকশায় অন্তর্ভুক্ত বা প্রদর্শিত হইয়া থাকে এবং উক্ত নকশা প্রস্তুতের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আপত্তি উত্থাপিত না হইয়া থাকে;
যখন সীমানা সংক্রান্ত বিরোধীয় এস্টেট রাজস্বের জন্য দায়বদ্ধ বা অন্য কোনো সীমানা, যাহার জন্য সরকারের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে,এইক্ষেত্রে কালেক্টর যতদুর সম্ভব পূর্ববর্তী সীমানা, যাহা অঙ্কিত বা প্রদর্শিত রহিয়াছে, তাহা একটি ব্যাখ্যা প্রদান পূর্বক পুনরায় একইরূপে রাখিবেন;এবং যেইক্ষেত্রে বিরোধ অন্য কোনো সীমানা সংক্রান্ত, সেইক্ষেত্রে কালেক্টর প্রয়োজন মনে করিলে পূর্ববর্তী সীমানা একই রাখিতে পারিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে,কালেক্টর কর্তৃক সীমানা পুনঃপ্রচার (জবষধু) বা রেকর্ডের ফলে কোনো পক্ষের জমির দখল ক্ষতিগ্রস্ত হইবে না এবং ইহা ব্যতীত সীমানা নির্ধারণ ও রেকর্ড ৪১ ধারার বিধানমতে প্রকৃত দখলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হইবে।
পক্ষগণ সম্মত হইলে কালেক্টর সীমানা পরিবর্তন করিতে পারিবেন। এই ধারায় বর্ণিত কোনো কিছুই প্রকৃত দখলের ভিত্তিতে বা পূর্ববর্তী নকশায় প্রদর্শিত এবং নূতনভাবে অঙ্কিত সীমানা পরিবর্তন করা হইতে কালেক্টরকে বিরত রাখিতে পারিবে না যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ এ মর্মে একমত হন যে,এরূপ নতুন সীমানা,প্রকৃত দখলের ভিত্তিতে সীমানা বা পূর্ববর্তী নকশায় প্রদর্শিত সীমানা ভুল এবং কালেক্টরের নিকট মনে হয় যে,এইরূপ নূতন সীমানা গ্রহণে কোনো আপত্তি নাই। এইরূপ প্রত্যেক পরিবর্তনের কারণ কালেক্টর কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করিবেন।
 

ধারা-৪৫। (আদালত বা জরিপের দ্বারা বসানো সীমানা সম্পর্কে সন্দেহ বা বিরোধ হইলে কালেক্টরের ক্ষমতা) :যদি কোনো কালেক্টর জানিতে পারেন যে,কোনো সীমানার বিষয়ে সন্দেহ বা বিরোধ রহিয়াছে-
(ক) যাহা কোনো সময় উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হইয়াছে;অথবা

(খ) যাহা পূর্ববর্তী কোনো রাজস্ব জরিপ বা সেটেলমেন্টের ফলে নকশায় বসানো হইয়াছে অথবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যবিবরণীর ফলে নির্ধারিত হইয়াছে এবং কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো আপত্তি উত্থাপিত হয় নাই;অথবা

(গ) যাহা এই আইনের অধীনে জরিপের মাধ্যমে বসানো হইয়াছে।
কালেক্টর যদি কোনো কারণে প্রয়োজন মনে করেন যে,এইভাবে নির্ধারিত বা বসানো সীমানা পুনরায় বসানো প্রয়োজন, তাহা হইলে ৪৪ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে উক্ত সীমানা পুনরায় বসানোর কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন।
এইরূপ সীমানা পুনরায় বসানোর ক্ষেত্রে তিনি প্রয়োজনীয় যেই কোনো তদন্ত এবং জরিপ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ তদন্ত ও করিপ ৬ ধারায় বর্ণিত তদন্তের কার্যবিবরণী হিসাবে গণ্য হইবে এবং কালেক্টর উক্ত ধারা অনুসারে তদন্ত ও জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

 

ধারা-৪৬। (কতিপয় ক্ষেত্রে কালেক্টর সীমানা নির্মাণ করাইবেন) :

যখন কালেক্টর কোনো বিরোধপূর্ণ সীমানা নির্ধারণ করিয়া চূড়ান্ত আদেশ দিবেন,এবং যখন কোনো জরিপ কর্মকর্তা প্রদত্ত সীমানা বা এই আইনের অধীনে নির্ধারিত সীমানা কোনো দেওয়ানী আদালতের ডিক্রিমূলে পরিবর্তন হইয়া চূড়ান্ত হইবে,এবং যখন কালেক্টর জানিতে পারিবেন যে,কোনো সীমানা উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হইয়াছে,
তখন কালেক্টর উক্ত সীমানার স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য যেইরুপ সঠিক মনে করিবেন, সেইরূপ সীমানা-চিহ্ন নির্মাণের আদেশ দিবেন এবং এই ধারা মতে সীমানা-চিহ্ন নির্মাণ ও এতদসংক্রান্ত খরচের অংশ বন্টনের বিষয়ে যতদুর সম্ভব ৩য় ও ৪র্থ খন্ডের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
 

ষষ্ঠ খন্ড
বিবিধ

ধারা-৪৭। (একক জমিদারগণের উপর আরোপিত প্রত্যেক দায় সাপেক্ষে যৌথ জমিদারগণ): যখন কোনো এস্টেট বা স্বত্ব যৌথভাবে দুই বা ততোধিক জমিদার বা রায়তের অধীনে থাকে, তখন এইরূপ সকল জমিদার এবং রায়ত যৌথ এবং পৃথকভাবে এই আইনের দ্বারা আরোপিত প্রত্যেক দায়ের জন্য দায়বদ্ধ থাকিবেন;
এবং কোনো এস্টেট বা স্বত্বের অংশীদার তাহার এস্টেট বা স্বত্বের জন্য প্রযোজ্য খরচের চূড়ান্ত অংশ প্রদান করিয়া থাকিলে, তিনি তাহারসহ অংশীদারের নিকট হইতে তাহাদের অংশ বকেয়া খাজনার ন্যায় আদায় করিতে বা দায় হিসাবে সমন্বয় করিতে পারিবেন।

 

ধারা-৪৮। (নোটিশ জারি) :

এই আইনের অধীনস্থ প্রত্যেক নোটিশ কোনো ব্যক্তির উপর নিম্নলিখিতভাবে জারি করা যাইবে-
(১) নির্দেশিত ব্যক্তিকে তাহা বিলি করিয়া বা এইরূপভাবে জারি করিতে ব্যর্থ হইলে, যেই বাড়ীতে উক্ত ব্যক্তি বাস করেন, তাহার কোনো দৃষ্টি আকর্ষক স্থানে লটকাইয়া বা উক্ত নোটিশ নির্দেশিত ব্যক্তির সাধারণ প্রতিনিধির নিকট বিলি করিয়া;বা
 

(২) নির্দেশিত ব্যক্তি সচরাচর যেইখানে বাস করেন বা যেইখানে তিনি বাস করেন বলিয়া জানা যায়, উক্ত ঠিকানায় রেজিষ্ট্রিকৃত ডাক যোগে;অথবা
 

(৩) নির্দেশিত ব্যক্তির এস্টেট বা স্বত্বের যেই কোনো মাল-কাচারীতে প্রদান পূর্বক অথবা যদি এইরূপ কোনো মাল-কাচারী না পাওয়া যায়, তাহা হইলে উক্ত এস্টেট বা স্বত্বের কোনো দৃষ্টি আকর্ষক স্থানে লটকাইয়া সকল ক্ষেত্রেই যেইখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো এস্টেট বা স্বত্বের মালিক, সেইক্ষেত্রে এইরূপ প্রত্যেক এবং সকল ব্যক্তির উপর নোটিশ জারিকে এই অনুচ্ছেদের অধীনে সঠিক ও যথেষ্ট বলিয়া গণ্য করা হইবে।
 

ধারা-৪৯। (ভুল বা ভুল ব্যাখ্যার কারণে আইনের কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হইবে না):

কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদানে দায়বদ্ধ ব্যক্তির নামের ভুলের কারণে অথবা যেই বর্ণনার এস্টেট বা স্বত্ব বা জমির জন্য উক্ত ব্যক্তি টাকা প্রদান করিতে দায়বদ্ধ, তাহার বর্ণনার ভুলের জন্য বা এই আইনের নির্দেশের আনুষ্ঠানিকতার জন্য কোনো কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হইবে না;এবং কালেক্টরের রেজিস্টারে নাই, এমন কোনো জমিদার, যাহার প্রতি নোটিশ জারি করা প্রয়োজন, এইরূপ জমিদারের প্রতি নোটিশ জারি করা না হইলে এই আইনের অধীনে কোনো কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হইবে না।

 

ধারা-৫০। (সাক্ষী হাজিরকরণে কালেক্টরের ক্ষমতা) :

এই আইনের অধীনে কোনো তদন্তের প্রয়োজনে কালেক্টর এই আইনে তাহাকে প্রদত্ত প্রত্যেক ক্ষমতার অতিরিক্ত হিসাবে ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির অনুরূপ উপায় ও পদ্ধতিতে সাক্ষীর সমন প্রদান এবং উপস্থিত হইতে ও দলিলপত্র হাজির করিতে বাধ্য করিতে পারিবেন।

 

ধারা-৫১। (নোটিশের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইলে প্রতিদিনের জন্য জরিমানা):

যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের ৭ ধারা অনুসারে বিশেষ নোটিশ অথবা ৫ম খন্ডের অধীনে তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য জারিকতৃ নোটিশের উল্লিখিত রিকুইজিশন নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পালনে ব্যর্থ হয়,তাহা হইলে কালেক্টর তাহাকে পঞ্চাশ টাকার বেশী নহে, এইরূপ প্রাত্যহিক জরিমানা ধার্য করিবেন এবং এইরূপ জরিমানা রিকুইজিশন পালন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য প্রদত্ত হইবে এবং জরিমানার বিরুদ্ধে কোনো আপীল বহাল থাকা সত্ত্বেও কালেক্টর সময়ে সময়ে বকেয়া জরিমানা আদায় করিতে পারিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে,এইরূপ কোনো আদেশের অধীনে জরিমানার পরিমাণ পাঁচশত টাকা অতিক্রম করিলে কালেক্টর বিষয়টা বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করিবেন এবং ইহার পর কমিশনারের কর্তৃত্ব ব্যতীত আর কোনো জরিমানা ধার্য করা যাইবে না।
 

ধারা-৫২। (সীমানা চিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সংবাদ না জানাইবার জন্য দণ্ড) :

সীমানা চিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত,ধ্বংস বা অপসারণ বা মেরামতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ১৯ ধারার বিধান অনুসারে কালেক্টরকে অবগত করিতে বাধ্য কোনো ব্যক্তি যদি অবগত করিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে কালেক্টর আদেশ প্রদানের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক একশত টাকা জরিমানা করিতে পারিবেন।
 

ধারা-৫৩। (সীমানা চিহ্ন অপসারণের জন্য দণ্ড) :

কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো সীমানা চিহ্ন মুছিয়া ফেলা,অপসারণ বা নষ্ট করিবার কারণে কালেক্টরের নিকট দোষী সাব্যস্ত হইলে দণ্ডবিধির ৪৩৪ ধারার মর্মানুসারে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক আইনত স্থাপিত জমির সীমানা নির্দেশক চিহ্ন অপসারণের জন্য দণ্ড প্রদানকারী কর্মকর্তার প্রতি সীমানা চিহ্নের জন্য অনধিক দুইশত টাকা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং এই টাকা ছাড়াও তাহার নিকট সীমানা-চিহ্ন পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয় খরচ আদায় করা যাইতে পারে।
 

ধারা-৫৪। (কালেক্টর সংবাদদাতাকে জরিমানার অংশবিশেষ পুরষ্কার হিসাবে প্রদান করিতে পারিবেন) :

কালেক্টর পূর্ববর্তী ধারা দুইটির অধীনে আরোপিত ও আদায়কৃত জরিমানার অংশবিশেষ উক্ত জরিমানা আরোপের বিষয়ে সংবাদদাতা কোনো ব্যক্তিকে পুরষ্কার হিসাবেবে প্রদান করিতে পারিবেন।

 

ধারা-৫৫। (জরিমানা আদায়) :

ধারা ৫১,৫২ ও ৫৩-এর অধীস্থ জরিমানা যতদুর বাস্তবে সম্ভব হয় ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৮৬,৩৮৭ এবং ৩৮৯ ধারায় বর্ণিত বিধান অনুসারে আদায় করা হইবে;কিন্তু যদি যেই ব্যক্তির নিকট হইতে জরিমানা আদায় করা হইবে, উক্ত ব্যক্তির ঐ জেলায় কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকে, তাহা হইলে উক্ত জরিমানা বকেয়া রাজস্বের ন্যায় আদায়যোগ্য হইবে।
 

ধারা-৫৬। (যখন সীমানা-চিহ্ন অপসারণকারীকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না, তখন কালেক্টর তাহা মেরামত করিতে পারিবেন) :

যখন সীমানা-চিহ্ন তুলিয়া ফেলা,সরাইয়া  ফেলা বা বিনষ্ট করা ব্যক্তিকে সনাক্ত করা না যায় অথবা অন্য কোনো বাস্তব কারণে তাহার নিকট হইতে নির্দেশমতো জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হয়,তখন কালেক্টর উক্ত সীমানা-চিহ্ন পুনঃস্থাপন বা মেরামত করাইবেন এবং এতদসংক্রান্ত খরচ একই সীমানা সংলগ্ন জমির দখলদারগণের নিকট হইতে কালেক্টর যেইরূপ অংশ সঠিক মনে করিবেন, সেইরূপ অংশে আদায় করিবেন।
 

ধারা-৫৭। (বকেয়া সকল অর্থ দাবি হিসাবে গণ্য হইবে) :

এই আইনের বিধান অনুসারে সংঘটিত যেই কোনো খরচ,অথবা নোটিশ জারি বা কোনো আপীলের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ কর্তৃক প্রদেয় খরচ দাবি হিসাবে গণ্য হইবে।

 

ধারা-৫৮। (আদেশের বিরুদ্ধে আপীল) :

এই আইনের ৫৯ ও ৬০ ধারার বিধান ব্যতীত কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপীল অধিকার হিসাবে দায়ের করা যাইবে না;তবে
এই আইনের অধীনে সহকারী তত্ত্বাবধায়ক এবং ডেপুটি কালেক্টরের কার্যক্রম ও আদেশাবলী জরিপ তত্ত্বাবধায়ক বা কালেক্টরের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিবে;
জরিপ তত্ত্বাবধান এবং কালেক্টরের কার্যক্রম ও আদেশাবলী বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিবে;এবং সকল কর্মকর্তার কার্যক্রম ও আদেশাবলী সরকারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিবে।
তবে শর্ত থাকে যে,এই আইনের অধীনে জরিপের ক্ষেত্রে সরকার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে ৬০ ধারার অধীনে কমিশনারের আপীল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষমতা সরকার সংরক্ষণ করিতে পারিবেন এবং কমিশনারের জরিপ তত্ত্বাবধায়ক বা কালেক্টর এবং তাহাদের অধস্তন কর্মকর্তাগণকে নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের সাধারণ ক্ষমতা সরকার সরাসরি প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

 

ধারা-৫৯। (সহকারী তত্ত্বাবধায়ক অথবা ডেপুটি কালেক্টর প্রদত্ত কতিপয় আদেশের বিরুদ্ধে আপীল) :

নিম্নলিখিত বিষয়ে সহকারী তত্ত্বাবধায়ক বা ডেপুটি কালেক্টরের আদেশের বিরুদ্ধে আদেশের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধায়কের নিকট আপীল করা যাইবে-
(ক) ৮ ধারা মতে সরবরাহকৃত মালামাল ও শ্রমের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে:

(খ) ১০ ধারা মোতাবেক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়ে:

(গ) সীমানা-বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে:

(ঘ) এই আইনের অধীনে জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত বিষয়ে।
 

ধারা-৬০। (কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধায়কের কতিপয় আদেশের বিরুদ্ধে আপীল) :

নিম্নলিখিত বা জরিপ তত্ত্বাবধায়কের কতিপয় আদেশের বিরুদ্ধে আপীল : নিম্নলিখিত বিষয়ে কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধায়কের আদেশের বিরুদ্ধে আদেশের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপীল করা যাইবে-
(ক) ৮ ধারা মোতাবেক সরবরাহকৃত মালামাল ও শ্রমের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে;

(খ) ১০ ধারা মোতাবেক সরবরাহকৃত মালামাল ও শ্রমের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে;

(গ) বিরোধীয় সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে;

(ঘ) কোনো ব্যক্তির উপর পঞ্চাশ টাকার অধিক জরিমানা করা হইলে।
তবে শর্ত থাকে যে, (ক), (খ) ও (গ) দফায় বর্ণিত আপীলের ক্ষেত্রে কোনো অধন্তন অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধায়ক কোনো আপীলের আদেশ প্রদান করেন নাই।
 

ধারা-৬১। (আপীলের খরচ প্রদানের আদেশ) :

কমিশনার,কালেক্টর বা জরিপ তত্ত্বাবধাক কোনো পক্ষের আপীলের খরচ প্রদানের জন্য যেইরূপ সঠিক মনে করিবেন, সেইরূপ আদেশ দিতে পারিবেন।

 

ধারা-৬২। (প্রথমে আপীল না করিয়া কোনো মামলা দায়ের করা যাইবে না) :

জরিপ তত্ত্বাবধায়ক,কালেক্টর,সহকারী তত্ত্বাবধায়ক অথবা ডেপুটি কালেক্টর কর্তৃক সীমানা বিরোধ সংক্রান্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে ৫৯ বা ৬০ ধারা মোতাবেক আপীল দায়ের ব্যতীত অথবা আদেশ প্রদানকালে মামলাকারী ব্যক্তি নাবালক,পাগল বা নির্বোধ না হইয়া থাকিলে উক্ত আদেশ বাতিলের জন্য আদালতে কোনো মামলা করা যাইবে না।
 

ধারা-৬৩। (সরকারের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা) :

সরকার এই আইনের সহিত অসামঞ্জস্য না হয়, এইরূপভাবে-
- নকশা ও রেজিস্টার প্রস্তুত এবং এই আইনে জারিকতৃ কোনো জমির তথ্য সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করিবার জন্য;
- এবং সাধারণভাবে ও আইনের অধীনে সকল কার্য সার্বিকভাবে সম্পাদন এবং গৃহীত সকল কার্যক্রম গ্রহণের প্রবিধান সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।
এইরূপ বিধির অধীনে তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্তের সকল আদেশ ৬ ধারার অধীনস্থ তদন্তের ন্যায় গণ্য হইবে এবং কালেক্টর উক্ত ধারার অধীনে তদন্তের ক্ষেত্রে যেই ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারেন, এইক্ষেত্রেও তিনি তাহা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।